সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা আর নেই
-
আপলোড সময় :
০৫-০৭-২০২৫ ০৬:২৮:০৪ অপরাহ্ন
-
আপডেট সময় :
০৫-০৭-২০২৫ ০৬:২৮:০৪ অপরাহ্ন
ছবি- ইন্টারনেট
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ টি এম শামসুল হুদা আর নেই। শনিবার (৫ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। পরে তাকে দ্রুত ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
তার শ্যালক আশফাক কাদেরী গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে বলেন, সকালে গুলশানের বাসায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন শামসুল হুদা। তখনই তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু পৌছানোর আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বর্তমানে তার মরদেহ ইউনাইটেড হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তার মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফেরার পর জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা হবে। বনানী কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।
শামসুল হুদা বাংলাদেশের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ২০১২ সাল পর্যন্ত এই পদে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীনেই ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে প্রায় ৮৭ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি ছিল, যেখানে আওয়ামী লীগ ২৩০টি, বিএনপি ৩০টি ও জাতীয় পার্টি ২৭টি আসন পায়।
সেই সময় নির্বাচন ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন শামসুল হুদা। তার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন প্রথমবারের মতো ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে এবং স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের ব্যবহার চালু করে। নির্বাচন আইন সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। এই কমিশনে তার সঙ্গে কমিশনার হিসেবে কাজ করেন মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।
ব্যক্তিগত জীবনে এ টি এম শামসুল হুদা এক মেয়ে ও স্ত্রী রেখে গেছেন। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় ফরিদপুরে। ১৯৪৩ সালের ১০ জুলাই ফরিদপুর সদর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৫৮ সালে মাধ্যমিক ও ১৯৬০ সালে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেন প্রথম শ্রেণিতে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগদানের মাধ্যমে তার পেশাগত জীবনের শুরু হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন।
চাকরি জীবনে তিনি বাগেরহাটের মহকুমা প্রশাসক, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও ব্যাংকিং বিভাগে সচিব এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর নানা সামাজিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার কর্মদক্ষতা ও নিরপেক্ষতা তাকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত করেছিল।
এ টি এম শামসুল হুদার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : নিজস্ব প্রতিবেদক
কমেন্ট বক্স